মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ইস্পাতের চাহিদা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও বিশ্ববাজারে ইস্পাতের চাহিদা দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন।

সংস্থাটির সাম্প্রতিক ‘শর্ট রেঞ্জ আউটলুক’ বা স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা বেড়ে ১ হাজার ৭২৪ মিলিয়ন টনে দাঁড়াতে পারে। ২০২৭ সালে এ প্রবৃদ্ধির গতি আরো ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি চাহিদা ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৬২ মিলিয়ন টনে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিজনেস লাইন।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসংশ্লিষ্ট অঞ্চলের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও বিশ্ববাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চাহিদায় মন্দা থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপান, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত অর্থনীতিগুলো ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির দিকে ফিরছে। ২০২৭ সাল নাগাদ চীন বাদে বিশ্বের অন্যান্য দেশে ইস্পাতের চাহিদা ৪ শতাংশ বাড়তে পারে।

উন্নত বিশ্বের দেশগুলো ২০২৫ সালে সামান্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল, যা ২০২১ সালের পর টানা তিন বছরের পতনের অবসান ঘটায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে এ প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে তা ২ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছবে। ওয়ার্ল্ডস্টিল ইকোনমিকস কমিটির চেয়ারম্যান আলফনসো হিদালগো ক্যালসেরাডা জানান, ইস্পাত শিল্প এখন ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া কঠিন সময় পার করে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল ইস্পাত বাজার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

২০২৬ সালে দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৯ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, রেল নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ এবং অটোমোবাইল খাতের চাঙ্গাভাব এ প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

অন্যদিকে চীনের বাজারে চাহিদার সংকোচন এখনো পুরোপুরি থামেনি। তবে আবাসন খাতের সংকট কিছুটা কাটতে শুরু করায় ২০২৬ সালে চীনের চাহিদা কমার হার ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে। ২০২৭ সাল নাগাদ চীনের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আফ্রিকা মহাদেশেও বড় ধরনের নগরায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে ইস্পাতের ব্যবহার বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান দেশগুলোয়ও ২০২৭ সালে ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এ প্রবৃদ্ধির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

আরও